গল্পের শ্রোতারা আজ কোথায়?
বৈদ্যুতিক আলো তখন ছিল না। হ্যারিকেন,লম্ফের আলো তখন সম্বল। কেরোসিনের অভাব হলেই নিভে যেত সেই আলো। এরপর এল বৈদ্যুতিক আলো। আমরা আলোয় আলোকিত হয়ে উঠলাম। লোডশেডিং হলেই সব অন্ধকার। সন্ধ্যায় হঠাৎ নিভে যেত বৈদ্যুতিক সেই আলো। তখন পাড়া জুড়েই গভীর অন্ধকার। এখনকার মতো সেই পরিবেশ ছিল না। তখনকার জীবনটা ছিল একেবারে অন্যরকম। কারেন্ট চলে গেলেই বসতো আসর। পরিবারের সবাই চাটাই পেতে ছাদে বা উঠোনে জমায়েত করে বসতো সবাই।
চারদিকে শুধুই নীরবতা। নিঝুম অন্ধকারে জোনাকির ঝিকিমিকি আলো জ্বলছে। খোলা আকাশে ভরা তারা। দূরে কুকুরের ডাক শোনা যেত। পাখি-পক্ষির কিচির-মিচির আওয়াজ। দাদু-ঠাকুমার কাছে গল্পের শ্রোতারা বসে পড়তো। সেই সব নিয়েই শুরু হত নানা গল্পের আসর। প্রাধান্য পেত ভূতের গল্প। বড়দের কাছ থেকে ছোটরা ভূতের গল্প, জন্তু-জানোয়ারের গল্প ও রাজাদের উপাখ্যান শুনতো। শিশু-কিশোররা সেই গল্পের জগতে ডুবে যেত। ভূতের গল্পে ভয়ে কুঁকড়ে যাওয়ার অবস্থা। কৌতূহলী চোখ তাকিয়ে থাকতো হা করে। স্মার্টফোন, ইন্টারনেট ও বৈদ্যুতিক রকমারি আলোয় সেই সুখস্মৃতি মলিন। এখন ছোটরা বড়দের কাছে গল্প শুনতে চায় না। লোডশেডিং হলেও অন্ধকার মানে শুধুই শূন্যতা নয়,এটা বোঝা যেত। ছিল সম্পর্কের গভীরতা। সম্পর্ক গড়ে উঠত মনের কাছাকাছি। আজ চারপাশে অফুরন্ত আলো। ইন্টারনেটময় জীবনে সেই আনন্দ ম্লান।

